আমাদের পরিচিতি

২০০১ সালের শুরুতে আমরা কজন সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা বন্ধু যারা নিজেদের ক্যারিয়ার উন্নয়নে পারস্পরিক আলোচনার জন্য প্রায়ই একত্রিত হতাম। আমরা নিজেদের চাকুরী ও ব্যবসায়িক আলোচনার পাশাপাশি সমাজ সেবামূলক কাজ নিয়ে কথা বলতাম। আমরা কেউ মাদকাসক্ত এমনকি ধুমপায়ী ছিলাম না কিন্তু ছাত্রজীবনে মাদকের ভয়াবহতা ও মাদক কিভাবে আমাদের কয়জন প্রিয় বন্ধুকে ধ্বংস করেছে যার ফলে অনেকে পড়া লিখা পর্যন্ত সম্পূর্ণ করতে পারেনি যা প্রতি মুহূর্তে আমাদের তাড়া করত। আমাদের সেই আলোচনার টেবিলেই গ্রীণ লাইফের জন্ম ও ‘গ্রীণ লাইফ’ নামের প্রতিষ্ঠানের যাত্রা। ‘গ্রীণ লাইফ’ মাদকাসক্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক, মনো-রোগাক্রান্ত ও আচরণগত সমস্যা গ্রস্তদের সু-চিকিৎসা দিয়ে থাকে।
‘গ্রীণ লাইফ’ মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও নিরাময়ের পাশাপাশি সমাজে মাদক বিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রম অভ্যহত রেখেছে। যার আলোকে মাদক বিরোধী র‌্যালী, আলোচনা সভা, পোস্টার, লিপলেট, বিতরণের মাধ্যেমে সমাজের মানুষদের মাদকের কুফল সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে আসছে।
সত্যিকার অর্থে মাদকাসক্তি একটি ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা। এর কারণে পারিবারিক শান্তি, অর্থ সম্পদ ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটিয়ে ও সমাজের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে। আপত সুখকর অনুভূতি থেকে আসক্তির কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় যা কখনো বা মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকে।

                                                  “জীবন একটাই, তাকে ভালবাসুন
                                                   মাদক থেকে দূরে থাকুন”

                                                  “নেশা ছেড়ে কলম ধরি
                                                   মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি”

                                                  “শুধু জীবন নয়,
                                                   চাই সবুজ জীবনের উচ্ছ্বাস”

মাদক ও মাদক দ্রব্য কি?
মাদক হচ্ছে বিশেষ ধরণের রাসায়নিক দ্রব্য (Chemical substance), আর মাদক দ্রব্য হচ্ছে আসক্ত বা নেশা সৃষ্টিকারী রাসায়নিক দ্রব্য, ভেষজ বা ঔষধ যা গ্রহণে মানুষ শারীরিক মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একই সঙ্গে পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয় । বাংলাদেশে অপব্যবহার এমন কয়েকটি মাদক দ্রব্য হচ্ছে- মদ, আফিম, মরফিন, পেথিডিন, হেরোইন, ফেন্সিডিল, নেশার টেবলেট, গাঁজা, ভাং, চরস, টিডিজেসিক ইনজেকশন ও বহুল আলোচিত ও ভয়ঙ্কর টেবলেট ‘ইয়াবা’ যা বিভিন্ন রং, আকার ও আকৃতিতে পাওয়া যায়। সিগারেটও এক ধরনের নেশা, কেননা সিগারেট দিয়েই অধিকাংশ নেশার শুরু হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ৯৫.৪% মাদক ব্যবহার কারী ধূমপানে আসক্ত।

আসক্তি কি?
আসক্তি হচ্ছে এক ধরনের টান, যার ফলে ব্যক্তি সাময়িক আনন্দ ও তৃপ্তি পায়। ব্যক্তি এই আনন্দ ও তৃপ্তি পূনরায় পাওয়ার জন্য ঐ নির্দিষ্ট মাদক দ্রব্য বারবার সেবন করে, যার ফলে প্রতিনিয়ত এটি সেবন করার প্রবণতা তার মধ্যে জন্ম নেয়। ফলে ঐ ব্যক্তি মাদকের প্রতি শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং ব্যক্তি সারাক্ষণ মাদক প্রাপ্তির চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকে, এটিই হলো আসক্তি, টান বা নেশা।

মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্তির কারণ:
• মাদকের প্রতি কৌতূহল
• নেশা গ্রহণকারী বন্ধুদের প্রভাব
• মাদকের কুফল সম্পর্কে অজ্ঞতা
• প্রতিকূল পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ মানুষ হওয়া
• মাদকের সহজলভ্যতা
• মানসিক চাপ সহ্য করতে না পারা
• হতাশা, ব্যর্থতা, আত্নগ্লানি ইত্যাদি থেকে
• পারিবারিক বন্ধনে শিথলতা ও নিয়ন্ত্রণ হীনতা
• মাদক ব্যবসায়ীদের সংস্পর্শ ও সহযোগীতা
• বেকারত্ব, নিঃসঙ্গতা
• অর্থের প্রাচুর্য্য

মাদকাসক্তির লক্ষণ এবং উপসর্গ:
• হঠাৎ আচরণের অস্বাভাবিক পরিবর্তন।
• একা একা সময় কাটানো ।
• বন্ধু পরিবর্তন।
• হঠাৎ করে হাত খরচ বেড়ে যাওয়া।
• অসময়ে বা গভীর রাতে বাড়ী ফেরা।
• সব সময় ঘুম ঘুম ভাব অথবা ঝিমুনী।
• অল্পতেই রেগে যাওয়া, মেজাজ গরম থাকা ।
• কথা বার্তা জড়িয়ে যাওয়া।
• চোখের নীচে কালিপড়া, অস্থিরতা পড়াশুনা এবং খেলাধূলায় অমনোযোগী হওয়া ।
• খাওয়াতে অরুচি, অল্প খেয়ে উঠে যাওয়া এবং মাঝে মাঝে বমি করা।
• স্কুল/কলেজ, কর্মক্ষেত্রে না যাওয়া এবং স্কুলে/ কলেজে যাবার নাম করে অন্যত্র সময় কাটানো।
• হঠাৎ করে মিষ্টি খাওয়ার প্রতি ঝোক সৃষ্টি।
• অনিদ্রা ও খুক খুক করে কাঁশি হওয়া।
• বাথরুমে দীর্ঘ সময় কাটানো।
• সকালে তাড়াহুরা করে প্রায়ই বেড়িয়ে যাওয়া।
• পোষাকে অমনোযোগী, ছেঁড়া, নোংরা পোষাক পড়তে আপত্তি না করা।
• গোসল না করা, দাঁত না মাজা, নোংরা থাকা।
• ঘরের জিনিসপত্র, টাকা পয়সা প্রায়ই উধাও হয়ে যাওয়া।
• ক্রমাগত মিথ্যা বলার প্রবণতা, সব কথায় তর্ক এবং যুক্তি খাটানো।
• হাতের আঙ্গুলে আগুনের পোড়া দাগ।
• হঠাৎ করে নাক চোখ দিয়ে পানি পড়া, ভীষণ ভাবে ছটফট করা অথবা জ্বর জ্বর ভাব।
• দেরী করে ঘুম থেকে উঠা। অসময়ে বিছানায় শুয়ে থাকা।
• বাড়ীর বিভিন্ন জায়গায় পোড়া কাগজ, ব্লেড, ম্যাচের কাঠি, সিগারেটের ফয়েল/রাংতা পাওয়া।
• শরীরের বিভিন্ন জায়গায় সূচ ফুটানোর দাগ।
• ঘন ঘন নাক বা শরীর চুলকানো।

মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সমূহ:
• পারিবারিক অশান্তি ও সম্পর্কের অবনতি হওয়া।
• পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়া বা সমাপ্ত করতে না পারা।
• চাকরীতে বা ব্যবসা বাণিজ্যে অমনোযোগী হওয়া।
• সামাজিক ভাবে নিন্দা ও ঘৃণার শিকার হওয়া।
• নেশা ও চিকিৎসার পিছনে টাকা খরচ হওয়া।
• আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হওয়া।
• অপরাধের কারণে জেলে যাওয়া।

                                                  “জীবন কত চমৎকার
                                                   মাদক মানে অন্ধকার”

মানসিক ক্ষতি সমূহ:
• নিজের প্রতি অমনোযোগ
• নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারানো
• অস্থিরতা, খিটখিটে মেজাজ ও হতাশা
• অনিদ্রা ও অবসাদ
• ব্যর্থতা মেনে নিতে না পারা
• নিঃসঙ্গতা, বিচ্ছিন্নতা, বিষন্নতা অবস্থায় থাকা
• স্মৃতিলোপ হওয়া
• অতিরিক্ত সন্দেহ প্রবণতা
• অপরাধবোধ, দুশ্চিন্তা বা রাগ হওয়া
• সন্দেহ বাতিক, বাতুলতা, উৎসাহ হারানো ও আগ্রহের অভাব
• অপরাধ প্রবণতা
• আত্মহত্যার ঝুঁকি বা ইচ্ছা জাগা

শারীরিক ক্ষতি সমূহ:
• দুর্বল স্বাস্থ্য, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, অনিদ্রা
• শরীরে ক্ষত ও পোড়া
• দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়া
• শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধিতা
• লিভারে পচন, হার্ট অ্যাটাক ও ফুসফুসে সমস্যা
• অপুষ্টিতে দেহ শুকিয়ে যাওয়া
• মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটা
• পুরুষত্বহীনতা বা মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের কারণ
• এইডস, ক্যান্সার, যৌনরোগের মতো জটিল রোগ হওয়া
• অকাল মৃত্যু

পারিবারিক ক্ষতি সমূহ:
• পরিবারে মানমর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়া
• পারিবারিক সুখ-শান্তি নষ্ট হওয়া
• ঋণগ্রস্ত হওয়া
• পরিবার- পরিজন ও আত্বীয়- স্বজন থেকে বিচ্ছিন্নতা
• বিশ্বাস ও মূল্যবোধ হারানো
• পরিবার-পরিজনকে অভাবে ফেলা
• জীবনে উন্নতির আকাঙ্খা হারিয়ে ফেলা
• পরিবারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা

সামাজিক ক্ষতি সমূহ:
• চাকরি হারানো বা অর্থ উপার্জনের উৎস নষ্ট হওয়া
• স্কুল থেকে ঝরে পড়া
• পেশাজীবি হিসাবে লাইন্সেস বা সার্টিফিকেট হারানো
• অপরাধমূলক আচরণ করা
• অসামাজিক কার্যকলাপের প্রবণতা
• আইনগত সমস্যা-গ্রেপ্তার হওয়া
• সমাজে নিরাপত্তার ভঙ্গ করা
• পরিবার ও সমাজে বিশ্বাস ও মূল্যবোধ হারানো

মাদকাসক্ত মানসিক বিপর্যয় ছাড়াও চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে মাদকদ্রব্য গ্রহণকারীরা যেসব দৈহিক ব্যাধির শিকার হন তা নিম্নরূপ:
• মাদক সেবনে দৈহিক চেতনাকে সাময়িকভাবে উদ্দীপ্ত করে বটে,কিন্তু তার  কর্মক্ষমতাকে নিস্ক্রিয় করে দেয়।
• প্রত্যাখানজনিত (Withdrawal) কষ্টকর পরিস্থিতি(যেমনঃ শরীরে কাঁপুনি, খিটখিটে মেজাজ, নাক,চোখ দিয়ে পানি ঝড়া,হাঁচি,কাঁশি শরীরে প্রচন্ড ব্যাথা,পেট ব্যাথা,পাতলা পায়খানা,অনিদ্রা
ইত্যাদি।
• উত্তেজনা, আচার-আচরণ ও বিচার- বিবেচনায় এলোমেলো, অচেতন অবস্থা ইত্যাদি।
• সাধারণ লোকদের তুলনায় মাদকদ্রব্য সেবনকারীদের আত্নহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া।
• মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে মাদকাসক্ত ব্যক্তির জিহ্বা ক্রমশ ভারি হতে থাকা।
• পুরুষত্বহীনতা বা বন্ধ্যা।
• আচরণগত সমস্যা, মাত্রাতিরিক্ত রাগ, খিটখিটে মেজাজ জেদ, নিয়ন্ত্রণহীন আবেগ, মানসিক শুন্যতা, অভদ্র আচরণ ও অমনোযোগিতা।
• বিভিন্ন অসামাজিক কাজে লিপ্ত হওয়া এবং অপরাধ জগতে নিজেকে আত্মসমর্পন করা, চুরি, মিথ্যা ও প্রতারণা ইত্যাদি।
• পারিবারিক অশান্তি, বিশৃঙ্খলা,অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি, সম্পর্কের অবনতি, বিচ্ছিন্নতা, একাকীত্ব।
• মাদকদ্রব্যের প্রতিক্রিয়ায় হৃদপিণ্ড, অগ্নাশয় ও কিডনিতে প্রদাহর সৃষ্টি হওয়া।
• মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে দেহের ত্বকের ইলাস্টিসিটি ক্ষমতা বিলুপ্ত হতে থাকা।
• হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত হওয়া।
• অতিরিক্ত মাদক সেবনকারী ব্যক্তিকে পেপটিক ও আলসারে আক্রান্ত হতে দেখা যায়।
• মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে হজমশক্তি হ্রাস পায় ও খাওয়ার স্পৃহা কমে যায়।
• অতিরিক্ত মাদক সেবনে হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া ও হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়া।
• মাদক গ্রহন করলে জন্ডিস, হেপাটাইসিস, সিরোসিস হতে পারে।
• মাদকদ্রব্য সেবনে চোখের মনি সংকুচিত হয়ে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া।

চিকিৎসার ধরন ও প্রকৃতি:
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ওষুধ নির্ভর চিকিৎসা ব্যবস্থা মাদক নির্ভরশীলদের মাদকমুক্ত রাখতে সামান্যই ভূমিকা রাখে। মাদক নির্ভরশীল একজন ব্যক্তি মাদক গ্রহণ করার সময় তার আচার আচরণ ও চিন্তা চেতনার পরিবর্তন ঘটে বিধায় তাকে মাদকমুক্ত থাকতে হলে আচরণ ও চিন্তা চেতনার পরিবর্তন প্রয়োজন। আচরণ পরিবর্তন কষ্টসাধ্য বিষয় হলেও মাদকমুক্ত থাকার সাথে আচরণ পরিবর্তন গভীর ভাবে জড়িত। এজন্য গ্রীণ লাইফ-এ মেডিকেল অফিসারের পাশাপাশি একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
একজন মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তি দৈহিক ও মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণের কারণে অনেকেরই নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে। আমাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে মাদক নির্ভরশীল একজন ব্যক্তির দৈহিক চিকিৎসার পাশাপাশি আচরণগত পরিবর্তন, নৈতিক গুণাবলী বিষয়ে শিক্ষা প্রদান ও রোগীকে এমনভাবে সুস্থ করে তোলা যাতে তিনি জীবনের সাধারণ সমস্যার মোকাবেলা করতে সক্ষম হন।

এন.এ.(নারকটিস্ এ্যানোনিমাস) ও এ.এ.(এ্যালহলিক এ্যানোনিমাস)প্রোগ্রাম কি?
এন.এ. (নারকটিকস এ্যানোনিমাস) একটি ১২ স্টেপ পদ্ধতি যা ১৯৩০ সালের মাঝামাঝিতে মদ জাতীয় নিদ্রাদায়ক এ. এ. (এ্যালকহলিক এ্যানোনিমাস) ১২ স্টেপ পদ্ধতি হইতে উদ্ভব হয়। যার প্রতিষ্ঠাতা হল জিমি কিনন। নারকটিকস এ্যানোনিমাস চিকিৎসা পদ্ধতি ১৯৫৩ সাল থেকে প্রাতিষ্ঠানিকরূপ লাভ করে যা অতি ক্ষুদ্র পরিসর হতে বৃদ্ধি পেয়ে একটি বৃহৎ সংস্থায় পরিণত হয়েছে।
১৯৪৪ সালের শুরুতে এ. এ. (এ্যালকহালক এ্যানোনিমাস) এর প্রতিষ্ঠাতা বিল উইলসন মাদকাসক্তদের জন্য একটি পৃথক ফেলেশিপ উদ্ভাবন করেন। ১৯৪৭ সালে আমেরিকার ল্যাকসিংটন ও কেন্টাকিতে নারকো (Narco) শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে একজন নারকো সদস্য নিউইয়র্ক কারাগারে একটি স্বল্পকালীন ফেলেশিপ শুরু করেন যার নাম নারকোটিকস এ্যানোনিমাস (এন.এ)। এই পদ্ধতি বহুল পরিচিত ১২ স্টেপ প্রোগ্রাম। যার মাধ্যেমে নেশাগ্রস্তরা তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পায় (যা পারিবারিক ভাবে সম্ভব নয়) ও নেশা মুক্ত হয়। যাদের রিকভারী (Recovery) বলা হয়।