পুণর্বাসন প্রক্রিয়া

“গ্রীণ লাইফ”-এ চিকিৎসা ও রিহ্যাবিলিটেশন পদ্ধতি

‘গ্রীণ লাইফ’ মাদকাসক্তি চিকিৎসায় সবচেয়ে কার্যকরী ও ফলপ্রসূ চিকিৎসা পদ্ধতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এন.এ. (নারকটিস্ এ্যানোনিমাস), এ. এ. (এ্যালহলিক এ্যানোনিমাস) ও বিজ্ঞানসম্মত বিভিন্ন উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে যা নিম্নরূপ:
• ডি-এডিকশন প্রক্রিয়া (উইথড্রল সময় ও সমস্যা নিরুপণ) – ১ মাস
• চিকিৎসা বা রি-হ্যাবিলিটেশন প্রক্রিয়া (সমস্যা নিরাময়) – ২ মাস
• ফলো-আপ প্রক্রিয়া (পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন) – ১ মাস

ডি-এডিকশন প্রক্রিয়া

প্রথম ধাপ: ভর্তির দিন থেকে ১৫ দিন (কারো ক্ষেত্রে সময় বেশী লাগে) নেশা থেকে দূরে থাকার কারণে রোগীর মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা (খিচুনী, পেটের পিড়া, শরীর ব্যাথা ইত্যাদি) দেখা দেয়। এই সময় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শারীরিক সমস্যা সমাধানে চিকিৎসা চলতে থাকে। প্রয়োজনে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষাও করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় মাদকাসক্তদের কোন প্রকার ঔষধ দেওয়া হয় না।
দ্বিতীয় ধাপ: প্রথম ধাপ অতিবাহিত হওয়ার পর রোগীর শারীরিক অবস্থাার উন্নতি হলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে মাসের পরবর্তী দিনগুলোতে রোগীর সমস্যা নিরূপণ ও রোগীর মানসিক ও মনোরোগ কোন সমস্যা থাকলে ডি-এডিকশন কার্যক্রম চলতে থাকে।

চিকিৎসা ও রিহ্যাবিলিটেশন প্রক্রিয়া

চিকিৎসার এই ধাপে নিম্নের কার্যগুলো সম্পাদিত হয়:
• ষ্টাবিলাইজেশন
• ক্লাস ও প্রশিক্ষণ
• লার্ন এন্ড ট্রেনিং
• এন.এ. মিটিং
• কাউন্সিলিং
• গ্রুপ মিটিং
• টি.সি. (থেরাপুটিক কমিউনিটি)
• অকুপেশনাল থেরাপি
• কগনিটিভ বিহেভিয়বাল থেরাপি
• ধ্যান
• পজেটিভ পিয়ার কালচার
• গ্রুপ থেরাপি
• মটিভেশন/ কনসালটেশন
• ব্যায়াম
• বিনোদন বা রিক্রেশনাল থেরাপি
• ফ্যামিলির সহিত পারিবারিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাউন্সিলিং
• রিকভারীদের সঙ্গে আত্ব সহায়তা মূলক সম্পর্ক স্থাপন

বি: দ্র: রোগী দীর্ঘদিন ও অতিরিক্ত মাদক সেবনের ফলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সেই ক্ষেত্রে রোগীর মাদক ও মানসিক দুটি চিকিৎসাই এক সাথে নিতে হয়। এই সব রোগীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনে চিকিৎসার মেয়াদ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। উল্লেখ্য, মানসিক চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ মেয়াদী ঔষধ সেবন ও কাউন্সিলিং এর প্রয়োজন হয়।

ফলো-আপ প্রক্রিয়া

চিকিৎসার এই ধাপে রোগীকে ইন-হাউস কার্যক্রম থেকে মুক্ত বা ফ্রী করে দেওয়া হয়। এই পর্যায়ও তারা চিকিৎসার আওতাভুক্ত থাকে। ফলো-আপ অবস্থায় ব্যক্তিকে পরিবারের সহিত মিলিত হয়ে (সেন্টার ও পরিবারে, আসা যাওয়ার মাধ্যেম) পরিবারের সদস্যদের সহিত সুসম্পর্ক স্থাপন, মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি, নৈতিক মনোবলকে জাগিয়ে তোলা কর্ম দক্ষতা বৃদ্ধি ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যেমে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। উল্লেখ্য, গ্রীণ লাইফের ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণ নিয়মিত রোগীদের সঙ্গে মত বিনিময় ও কাউন্সিলিং সেবা দিয়ে থাকেন।

রিল্যান্স প্রিভেনশন বা পুনরায় পতন রোধ

মাদকের প্রতি মাদকসেবীর তীব্র টান বারে বারে,এমনকি চিকিৎসার পরেও ফিরে আসে। ব্যক্তি পুনরায় মাদকদ্রব্য ব্যবহার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। একেই বলে রিল্যান্স বা পুনরায় পতন। গ্রীণ ল্ইাফে রোগীদের মাদক দ্রব্যের প্রতি তীব্র টান ও নিয়ন্ত্রণের উপায় ও পুনরায় মাদক নেওয়া থেকে বিরত থাকার কৌশল শেখানো হয়।

চিকিৎসা পরবর্তী সেবা

বিভিন্ন গবেষণায় জানা যায়, মাদক নির্ভরশীলতা একটি জটিল, পুনঃ আসক্তিমূলক মস্তিষ্কের রোগ (A chronic relapsing brain desease) হিসেবে বিশ্ব পরিচিত। পুনঃআসক্তিকে স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া হিসবে ধরা হয়। পুনঃআসক্তি রোধ করতে মাদক নির্ভরশীলদের চিকিৎসা পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরী। পুনঃআসক্তি রোধে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। কারণ চিকিৎসা পরবর্তীকালে রোগীর মানসিক সহায়তা পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। এ জন্য চিকিৎসা পরবর্তীকালে পরিবারের সদস্যগণ কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাউন্সেলিং সেবা গ্রহণ করতে পারেন। চিকিৎসা পরবর্তী সেবা হিসেবে রোগীরা এনএ মিটিং, কাউন্সেলিং এবং প্রতিষ্ঠান আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এই জন্য গ্রীণ লাইফকে কোন প্রকার ফি বা টাকা দিতে হয় না। এক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের সুস্থ থাকতে হবে।

                                                      “নেশা নয়, সুস্বাস্থ্যই হোক
                                                                    জীবনের নতুন প্রত্যাশা”

                                                     “মাদক অপরাধ
                                                                   প্রবণতার জন্ম দেয়”

                                                    “মাদককে না বলুন
                                                                  জীবনকে সুস্থ্য রাখুন”